ইউটিউবিং কি এবং কিভাবে শুরু করবো? ইউটিউবিং এর এ টু জেড।

ইউটিউব এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোসাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোর মধ্যে একটি। সারাবিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি ব্যবহারকারী প্রতিদিন পাঁচ বিলিয়নের বেশি রকমের ইউটিউব ভিডিও দেখে। ইউটিউব দুনিয়া জুড়ে এতটাই জনপ্রিয় যে, ইউজাররা প্রতিদিন প্রায় ৫০ মিনিট সময় ইউটিউবে ব্যয় করে। 

বিশ্বজুড়ে ইউটিউব ইউজারদের এই বিপুল পরিমাণ চাহিদাকে মাথায় রেখে নতুন একটি পেশা হিসেবে গড়ে উঠছে ইউটিউবিং। অর্থাৎ ইউটিউব কন্টেন্ট বানিয়ে টাকা আয়ের পেশা। দেশের প্রচুর কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এখন ইউটিউবে কন্টেন্ট তৈরী করে সেখান থেকে টাকা আয় করেন। 

তাদের দেখাদেখি নতুন অনেকেই ইউটিউবিং শুরু করতে চায়। তবে বেশিরভাগ নতুন ব্যবহারকারীরাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এটি শুরু করবে সেটি বুঝে উঠতে পারেনা। এই লেখাটিতে আমরা নতুনদের জন্য ইউটিউব টিপস, ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন,  কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খোলা যায় এমন বিষয় সহ ইউটিউবের এ টু জেড সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। চলুন শুরু করা যাক!

Table of Contents

ইউটিউবিং শুরু করতে কি কি প্রয়োজন:-

নতুন বা নিউবিরা ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করতে চাইলে কি কি জিনিষ প্রয়োজন হবে সেটি নিয়ে চিন্তিত থাকে। ইউটিউবিং শুরু করতে হলে প্রথমে যা দরকার সেগুলো হলো–

  1. ভিডিও ক্যামেরা
  2. একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ও
  3. একটি কম্পিউটার। 

শুধুমাত্র এই ছোট ৩টি  জিনিষ দিয়েই ইউটিউবিং শুরু করা যায়। ভিডিও এডিট করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ভালো কোন এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। ইন্টারনেটে আপনি বিনামূল্যের অনেক ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার পাবেন। কিন্তু সেগুলো ব্যবহার না করাই উত্তম। যে সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চান না কেন, সেটি কিনে ব্যবহার করুন। ভিডিও এডিটিং আপনি নিজেই করতে পারবেন। কিছুদিন ধৈর্য ধরে কাজটি শিখলে এটি কারো জন্যই তেমন কঠিন কোনো কাজ নয়।

ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম:

ইউটিউবে চ্যানেল খোলা কঠিন কোনো কাজ নয়। ইউটিউবে একটি চ্যানেল খোলার জন্য শুধুমাত্র একটি জিমেইল আইডি ও কিছু বেসিক তথ্য পূরন করাই যথেষ্ট। জিমেইল একাউন্ট খুলতে হলে সাধারনত নাম, ফোন নাম্বার,  বয়স, লিঙ্গ ও ছবি এসব তথ্য দিতে হবে। 

এরপর আপনার জিমেইল একাউন্টটি ইউটিউবে সাইন ইন করে নিতে হবে৷ এই আইডি দিয়ে ইউটিউবে প্রবেশ করে শুরুতে আপনাকে প্রোফাইলে যেতে হবে। এরপর  Create a Channel এ ক্লিক করে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল তৈরী করতে হবে। 

ইউটিউব চ্যানেলের জন্য নাম নির্বাচন:

ইউটিউব চ্যানেলের জন্য আপনাকে এমন একটি নাম নির্বাচন করতে হবে যেটি আগে কেউ ব্যবহার করে নি৷ এই নামটি আপনি যে কোন বিষয়ের উপর নিতে পারেন। সেটা হতে পারে রান্না বিষয়ক, গেমস বিষয়ম, স্বাস্থ্য বিষয়ক বা অন্য যে কোনো বিষয়। তবে মনে রাখতে হবে যে ইউটিউব চ্যানেলের নাম একবার দিলে সেটিই চূড়ান্ত। পরে আর কোনো ভাবেই পরিবর্তন করা যায়না। চ্যানেলের নাম সংখ্যা দিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকাই ভাল।

ইউটিউব চ্যানেলে জন্য কন্টেন্ট এর সঠিক ক্ষেত্র নির্বাচন:

ইউটিউবিং শুরু করার জন্য চ্যানেলের সঠিক ক্ষেত্র বেছে নেওয়া আপনার জন্য অনেক বেশি জরুরি। ইউটিউব চ্যানেলে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও আপলোড করার সু্যোগ রয়েছে। প্রযুক্তি, বিনোদন, শিক্ষা, খেলাধুলা, লাইফ হ্যাকস, পর্যটন, কৌতুক ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের হাজার হাজার ইউটিউব চ্যানেল বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তাই এগুলোর মধ্যে যেকোনো এক বা দুইটি ক্ষেত্র আপনাকে বাছাই করে নিতে হবে। 

উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যে থেকে ইউটিউবিং করার জন্য কোন ক্ষেত্রটিকে আপনি বাছাই করবেন সেটি আগে ভেবে নিন। ইউটিউবিং এর ক্ষেত্র বাছাইয়ের জন্য আপনার ব্যক্তিগত শখ, দক্ষতা ও আগ্রহকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন। কারন, ভবিষ্যতে যেয়ে যদি পছন্দের ক্ষেত্রটিতে আপনি নতুন নতুন আইডিয়া ও নতুন তথ্য নিয়ে ভিডিও তৈরী করতে না পারেন, তাহলে ইউটিউব থেকে অর্থ আয় করা কঠিন হয়ে পড়বে। 

তাছাড়াও ইউটিউবিং এর ক্ষেত্রে কোন ধরনের দর্শককে লক্ষ্য করে আপনি কন্টেন্ট বানাবেন সেটি ঠিক করে নেয়া জরুরি। তাই ইউটিউবিং শুরুর আগে এসব জিনিষ লক্ষ্য রেখে সঠিক ক্ষেত্র বেছে নেওয়া জরুরি।

ইউটিউব থেকে আয় বলতে কি বুঝায়?

ইউটিউবিং করে তরুণেরা প্রচুর টাকা আয় করছে। ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার পদ্ধতি অনেক সহজ বলেই অসংখ্য তরুণ ইউটিউবিং এ আগ্রহী হচ্ছে। ইউটিউব থেকে আয় বলতে আসলে এডভার্টাইজার  থেকে প্রাপ্ত আয়কে বুঝায়। অর্থাৎ আপনার ইউটিউব চ্যানেলটিকে এডভার্টাইজাররা বিভিন্ন পণ্যের এডভার্টাইজিং এর জন্য ব্যবহার করবে। এ কারনে তারা আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু টাকা পে করবে। 

এক কথায়, আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওর শুরুতে বা মাঝামাঝিতে বিভিন্ন এডভার্টাইজ শো করা হবে, এর বিনিময়ে ইউটিউব থেকে আপনি কিছু টাকা আয় করতে পারবন। এছাড়াও আরো কিছু পদ্ধতিতেও ইউটিউব থেকে টাকা আয় করা যায়। যেমন- চ্যানেলের মেম্বারশিপ চালু করা, পণ্য বিক্রি, ইউটিউব প্রিমিয়াম ইত্যাদি।

ইউটিউবিং করে টাকা আয় করবেন কিভাবে?

ইউটিউবে চ্যানেল তৈরী করে কন্টেন্ট তৈরী করে সেখান থেকে ভাল পরিমাণে আয় করা সম্ভব। তবে এটি খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়। সারা বিশ্ব থেকে প্রতি এক মিনিটে ইউটিউবে চারশত এর বেশি ভিডিও আপলোড হয়। সুতরাং ইউটিউবিং এ প্রতিযোগিতাটি কত তীব্র সেটি বুঝতেই পারছেন। ইউটিউবিং করে এখান থেকে আয় করা শুরু করতে চাইলে দুইটি কাজ করতে হবে। 

  1. আপনার একটি নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে।
  2. আপনার ইউটিউব চ্যানেলটিকে ইউটিউবের পার্টনারশীপ প্রোগ্রাম অর্থাৎ মনেটাইজেশনে যুক্ত করতে হবে।

ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে আপনার চ্যানেলকে কিভাবে যুক্ত করবেন?

আপনার চ্যানেলটিকে ইউটিউব পার্টনাশিপ প্রোগ্রামে যুক্ত না করলে ইউটিউব আপনাকে কোনো ধরনের টাকা প্রদান করবে না। কোনো চ্যানেলকে ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে যুক্ত করার জন্য কিছু প্রাথমিক শর্ত পূরণ করতে হয়। ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে চাইলে এই শর্তগুলো অবশ্যই পূরন করতে হবে। 

ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে-

  •  আপনার ইউটিউব চ্যানেলটিতে সাবস্ক্রাইবার এর সংখ্যা কমপক্ষে ১০০০ জন হতে হবে।
  •  ইউটিউব চ্যানেলটিতে সর্বশেষ এক বছরে কমপক্ষে ৪ হাজার ঘন্টা ভিডিও ভিউ থাকতে হবে।
  • ইউটিউব চ্যানেলটির সঙ্গে নিজস্ব একটি গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত থাকতে হবে।

উপরে দেওয়া এই  শর্তগুলোর মধ্যে সব শর্ত পূরণ হয়ে গেলেই কেবল আপনি ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে পার্টিসিপেশনের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।

ইউটিউব চ্যানেলকে কিভাবে মনিটাইজেশন করা যায়?

ইউটিউবিং এর মাধ্যমে টাকা আয় করা প্রত্যেক তরুনেরই স্বপ্ন। ইউটিউবিং থেকে টাকা আয় করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ইউটিউব এর সাথে পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে যুক্ত হতে হবে। ইউটিউব এর পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার প্রসেসকে অনেকে ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশনও বলে। ইউটিউব চ্যানেলমনিটাইজেশন করলে আপনি ইউটিউব চ্যানেলে এডাভার্টাইজমেন্ট বসানো এবং এই এডভার্টাইজমেন্ট থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন করা পূর্বে বেশ সহজ ছিল। তবে ২০১৮ সালে ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশনের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরী করেছে। ইউটিউবের নীতিমালা অনুযায়ী চ্যানেল মনিটাইজেশন চালু করার পদ্ধতিগুলো হচ্ছে-

  • প্রথমে,ইউটিউবে Sign In করতে হবে।
  • এরপর, Profile এ ঢুকে Creator Studio তে প্রবেশ করতে হবে।
  • Creator Studio তে প্রবেশ করে আপপনার ইউটিউব চ্যানেলটি সিলেক্ট করতে হবে। এরপর Status and feature এ ক্লিক করতে হবে। 
  • এই পেজে Monetization লেখাটি দেখতে পাবেন। লেখাটি দেখতে পেলে সেটি Enable করে দিন।
  • সবশেষ ধাপে Confirm এ ক্লিক করে বের হয়ে আসতে হবে। 

হয়ে গেল আপনার ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন। এরপর থেকেই আপনি জনপ্রিয়তা অনুযায়ী ইউটিউবিং এর মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন। 

ইউটিউবিং এর মাধ্যমে মাসে সর্বোচ্চ কত টাকা আয় করা সম্ভব?

ইউটিউবিং কে পেশা হিসেবে নেওয়ার আগে এটি থেকে সর্বোচ্চ কতটাকা আয় করা সম্ভব এই প্রশ্ন সবারই থাকে। প্রশ্নটির উত্তর হলো, ইউটিউব থেকে মাসে সর্বোচ্চ কত টাকা আপনি আয় করতে পারবেন সেটি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। আয়ের ব্যাপারটি মূলত নির্ভর করবে আপনার চ্যানেলের ভিউয়ারদের ক্লাস, সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা, ভিউয়ারদের সাথে আপনার চ্যানেলের ইন্টারেকশন কেমন, এমন কিছু বিশেষ ফ্যাক্টরের মাধ্যমে।

২০১৮ সালে অর্থনীতিতে বিশ্ববিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস ইউটিউবিং এর মাধ্যমে  আয় নিয়ে একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেছিল। ফোর্বসের সেই আর্টিকেল অনুসারে, ২২.৪ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার নিয়ে বড় একটি চ্যানেল Ryan’s World এর সে বছর ইউটিউবিং এর মাধ্যমে আয় ছিল ২২ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৯০ কোটি টাকা!

বাংলাদেশ ও ভারতে এই আয়ের পরিমাণ তুলনামূলক কম। তবে বর্তমানে বেশ কিছু ইউটিউবারই  ইতোমধ্যে ইউটিউবিংকে তাদের পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে। ইউটিউবে নানা ধরনের কন্টেন্ট আপলোড করে এরা ইউটিউব থেকে প্রচুর টাকা উপার্জন করছে। সহজ কথায়, ভাল মানের ইউটিউব কন্টেন্ট নির্মাণ করে প্রথমে জনপ্রিয় হতে হবে। জনপ্রিয় হওয়ার পরেই আপনি ইউটিউবিং করে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন।

ইউটিউবিং পেশায় টাকা আয়ের অন্যান্য ক্ষেত্র গুলো কি কি?

ইউটিউবিং এর মাধ্যমে টাকা উপার্জনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতি গুলোর মধ্যেই শুধুমাত্র ইউটিউব থেকে অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে৷ ভিডিও কন্টেন্ট নির্মানের পাশাপাশি ইউটিউবিং পেশা থেকে অর্থ উপার্জনের অন্য পদ্ধতিগুলো আসুন জলদি জেনে নেই-

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে টাকা আয় 

ইউটিউবিং পেশা থেকে টাকা আয় করার একটি অন্যতম বড় উপায় হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। অল্প কথায়, এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সংজ্ঞা দিতে গেলে – এর মানে হলো অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তৃতীয় পক্ষের কারো সেই পণ্যের প্রচারণা করা। আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি ব্যবহার করে এই সুযোগটি গ্রহণ করতে পারেন। 

আপনার চ্যানেলে বিভিন্ন প্রোডাক্টের রিভিউ ভিডিও তৈরী করতে হবে। এরপর সেটির ডেসক্রিপশন বক্সে প্রোডাক্ট কেনার লিংক শেয়ার করতে হবে। এই লিংকে ক্লিক করে সেই প্রোডাক্টটি মানুষ কিনবে। ফলে প্রোডাক্টটি যত বেশি বিক্রয় হবে, আপনার কমিশন তত বেশি বাড়তে থাকবে। 

আমাদের বাংলাদেশে Daraz সহ মোবাইল বিক্রয় কারী বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এমন এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুযোগ চালু রেখেছে। আমাদের দেশের নামকএয়া ইউটিউবার রা এই প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রোডাক্টের প্রচারণা করছেন। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমান টাকা কমিশন হিসেবে আয় করছেন।

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা আয়

ইউটিউবিং পেশার মাধ্যমে টাকা আয় করার সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে গুগল ইউটিউব অ্যাডসেন্স। গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা আয় করার পূর্বশর্ত হচ্ছে ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়া৷ ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো এই লেখাটির শুরুর অংশে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

তবে এডসেন্সে আবেদন করার আগে কিছু জিনিষ লক্ষ রাখতে হবে। প্রথমত, যে জিমেইল এড্রেস দিয়ে অ্যাডসেন্স এ আবেদন করবেন সেই আইডিয়ে আপনার বয়স কমপক্ষে ১৮ হতে হবে। তাছাড়া আরেকটি বিষয় হলো, আপনার ইউটিউব চ্যানেলের একটি সুন্দর চ্যানেল আইকন থাকতে হবে।

বিভিন্ন প্রোডাক্টের রিভিউ ভিডিও তৈরী

আপনার ইউটিউব চ্যানেলে নানা রকমের প্রোডাক্টের রিভিউ প্রদানের মাধ্যমেও ইউটিউবিং পেশায় টাকা আয় করতে পারবেন। আপনি চ্যানেলের কোনো কন্টেন্টে কম সময়ের জন্য কোনো প্রোডাক্টের রিভিউ প্রদান করতে পারেন৷ এতে প্রোডাক্ট সম্পর্কে আপনার চ্যানেলের অডিয়েন্সরা জানতে পারবে৷ ফলে প্রোডাক্টটির ভাল প্রচারণা হয়ে যাবে। এতে সেই কোম্পানি আপনাকে আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। 

বিভিন্ন প্রোডাক্টের রিভিউ ভিডিও তৈরী ও এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ইউটিউব চ্যানেলের জনপ্রিয়তা কেমন সেটির উপরেই মূলত সাফল্য নির্ভর করে। মান সম্মত কন্টেন্ট তৈরী করার মাধ্যমে অডিয়েন্সদের কাছে আপনি যতবেশি পরিচিত হবেন, আপনার রিভিউ দেখে প্রোডাক্ট কেনার সংখ্যাও তত বাড়বে। সুতরাং, দর্শকদের কাছে প্রথমে আপনার চ্যানেলের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরী করতে মনোযোগী হওয়া দরকার।

নামকরা কোম্পানীর পক্ষে স্পন্সরড  ভিডিও তৈরী করা

নামকরা বিভিন্ন কোম্পানির হয়ে স্পন্সরড ভিডিও তৈরী করে ইউটিউবিং পেশা থেকে প্রচুর টাকা উপার্জন করা যায়। ইউটিউব অ্যাডভার্টাইজিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর লিংক হতে যে পরিমাণ আয় করা সম্ভব, স্পন্সর্ড ভিডিও তৈরী করে তার চেয়েও অনেক বেশি আয় করা সম্ভব। স্পন্সরড ভিডিও তৈরীর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের প্রোডাক্ট ও সেবার বিক্রি বাড়ানোর জন্য আপনার  ইউটিউব চ্যানেলে প্রোডাক্ট বা সেবাটি নিয়ে একটি স্পন্সরড ভিডিও তৈরী করার জন্য যোগাযোগ করবে। 

এরপর আপনি সেই নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট অথবা  সেবার ফিচারস ও নানা দিক গুলো তুলে ধরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও তৈরী করে ফেলবেন। ফলে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের অডিয়েন্সরা সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানতে আগ্রহী হবে। এই প্রচারণার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করবে।

ইউটিউবিং থেকে আয় বাড়ানোর কৌশল কি? 

ইউটিউব চ্যানেল থেকে কিভাবে আয় করা যায় সেটি নিয়ে এতক্ষনে আমরা বিস্তারিত একটি ধারনা পেয়ে গেছি। এখন ইউটিউবিং এর মাধ্যমে আয় করার এই পদ্ধতি গুলোর মধ্যে কি কি কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে আয়ের পরিমাণ আরো বাড়ানো যায় সেটি নিয়ে আলোচনা করব।

কন্টেন্টে SEO টেকনিক ব্যবহার করা

Google সহ বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে যেকোনো ওয়েবসাইটকে প্রোমোট করার টেকনিক কে  Search Engine Optimization বা  SEO বলা হয়। ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় বাড়ানোর জন্য SEO টেকনিক ব্যবহার করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এটির মাধ্যমে আপনার ভিডিওটি ইউটিউবে সার্চ রেজাল্ট গুলোর মধ্যে প্রথম দিকে জায়গা করে নেবে। এর ফলে অধিক পরিমাণে ইউজার সেই ভিডিওটি দেখতে পারবে। এতে আপনার চ্যানেলটি ইউটিউবে জনপ্রিয় হবে।  ইউটিউব থেকে আয় করার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

সফলভাবে SEO টেকনিক কাজে লাগাতে চাইলে সুনির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি মেনে চলতে হবে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে-

  • আপলোড করা কন্টেন্টের ডেসক্রিপশন বক্সে নির্দিষ্ট কিছু হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে হবে। 
  • ভিডিওর টাইটেলে এমন কিছু কমন শব্দ ব্যবহার করতে হবে, যেগুলো সকল ধরনের মানুষ সার্চ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করবে। 
  • কন্টেন্ট নির্মানের সময় নির্দিষ্ট কিছু কিওয়ার্ড বাছাই করে সেগুলো বারবার ব্যবহার করতে হবে।

চ্যানেলের জন্য মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরী করা

দর্শক জনপ্রিয়তা পেতে হলে আপনাকে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ও মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরী করতে হবে। প্রথমত, আপনার চ্যানেলে কন্টেন্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবে পাশাপাশি ভাল  মানের কন্টেন্ট তৈরী করা না হলে দর্শকেরা আপনার চ্যানেল দেখতে আগ্রহ পাবে না। তাই ইউটিউবিং এর মাধ্যমে অনেক বেশি আয় করতে হলে ভাল মানের কন্টেন্ট নির্মানে জোর দিতে হবে।

ইউটিউবের কন্টেন্ট গুলো সোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করা

আপনার ইউটিউব চ্যানেলে কোনো নতুন কন্টেন্ট আপলোড করার পর বিভিন্ন সোসাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যেমন – ফেইসবুক, টুইটার, ম্যাসেঞ্জার ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করতে হবে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনেক বেশি পরিমাণে দর্শক কন্টেন্ট সম্পর্কে জানতে পারবে। ফলে ইউটিউবিং এর মাধ্যমে আয় করার সুযোগ বেড়ে যাবে।

ইউটিউবিং এর মাধ্যমে অর্জিত টাকা কিভাবে তুলব, কোথা থেকে তুলব?

ইউটিউব সরাসরি কাউকে টাকা প্রদান করেনা। ইউটিউবের মাদার কোম্পানি টেক জায়ান্ট গুগল তাদের গুগল-অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে ইউটিউবারদেরকে টাকা প্রদান করে থাকে। ইউটিউবের পক্ষ থেকে এডভার্টাইজমেন্ট হিসাব করে প্রতি মাসের ১০ থেকে ১৪ তারিখের মধ্যেই আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়ে থাকে। 

কারো অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে জমে থাকা টাকার পরিমাণ ১০ ডলার হলেই, গুগল সেই ইউটিউবারের ঠিকানায় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে একটি কোড সহ চিঠি পাঠাবে। ইউটিউব অ্যাকাউন্টে ঢুকে সেই কোডটি ভেরিফাই করে নিতে হবে। পরবর্তীতে আপনার অ্যাকাউন্টে ১০০ ডলার জমা হলে গুগল আপনার প্রদানকৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেবে।

শেষ কথা

এই পোস্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা ইউটিউবিং এর সকল খুঁটি নাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিন আশা করছি ইউটিউবিং কিভাবে করবেন, ইউটিউবিং করতে কি কি প্রয়োজন, কিভাবে ইউটিউব থেকে টাকা আয় করবেন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনারা পোস্টটি থেকে পেয়ে গেছেন। পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে সোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করে সকলকে দেখার সুযোগ করে  দিন।

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap